নামাজ পড়ার নিয়ম: নতুনদের জন্য ধাপে ধাপে গাইড
নামাজ ধাপে ধাপে শিখুন: ফজরের দুই রাকাত, প্রতিটি জরুরি বাক্যের বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ, তারপর তিন ও চার রাকাতের নামাজে কী আলাদা, আর মাজহাবের ছোট ভিন্নতা।
এই গাইডে প্রচলিত মত ও সূত্র ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এটি কোনো ফতোয়া নয়। আপনার নিজের পরিস্থিতির জন্য বিশ্বস্ত আলেম বা ইমামের কাছে জিজ্ঞাসা করুন।
নামাজ দিনজুড়ে ছড়ানো আল্লাহর সঙ্গে পাঁচটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ। প্রতিটি একই মুষ্টিমেয় নড়াচড়া ও বাক্য দিয়ে গড়া, তাই ফজরের দুই রাকাত পড়তে পারলেই আপনি প্রতিটি নামাজ পড়তে পারবেন। এই গাইড প্রথমে ফজর ধাপে ধাপে দেখায়, তারপর তিন ও চার রাকাতের নামাজে কী আলাদা, আর শেষে মাজহাবগুলোর মধ্যে কয়েকটি ভিন্নতা, যাতে মসজিদে যা দেখেন তাতে অবাক না হন।
নবী (সা.) বলেছেন: “আমাকে যেভাবে নামাজ পড়তে দেখেছ সেভাবে পড়ো” (বুখারি ৬৩১)। নিচের নড়াচড়াগুলোতে সব মাজহাব একমত; ছোট পার্থক্যগুলো শেষে তালিকাভুক্ত।
শুরুর আগে
- অজু। পবিত্রতা দরকার; দেখুন অজুর নিয়ম ধাপে ধাপে।
- সময়। প্রতিটি নামাজের একটি ওয়াক্ত আছে; আপনার শহরের নামাজের সময় দেখুন। ফজর সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত।
- দিক। মক্কার কাবার দিকে মুখ করুন। কিবলা টুল বা মসজিদের দিক ব্যবহার করুন; বাংলাদেশ থেকে তা প্রায় ঠিক পশ্চিমে।
- সতর। পুরুষ অন্তত নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢাকেন; নারী মুখ ও হাতের কবজি ছাড়া সব। পরিষ্কার পোশাক ও পরিষ্কার জায়গাই যথেষ্ট; জায়নামাজ ঐচ্ছিক।
- নিয়ত। কোন নামাজ পড়তে যাচ্ছেন তা মনে জানাই যথেষ্ট। মুখে বলা কোনো মাজহাবে আবশ্যক নয়, যদিও কেউ কেউ তা মুস্তাহাব মনে করেন।
ফজর: দুই রাকাত, ধাপে ধাপে
রাকাত হলো একটি “একক”: দাঁড়ানো, রুকু, দুই সিজদা। ফজরে দুটি।
ধাপ ১: তাকবিরে তাহরিমা (দাঁড়িয়ে)
সোজা দাঁড়ান, পা একটু ফাঁক করে, সিজদার জায়গার দিকে তাকিয়ে। হাত কাঁধ বা কান পর্যন্ত তুলে বলুন:
আল্লাহু আকবার — “আল্লাহ সবচেয়ে মহান।”
আপনি এখন নামাজের “ভেতরে”। এখান থেকে শেষ পর্যন্ত কথা বলবেন না, খাবেন না, এদিক-ওদিক তাকাবেন না বা কিবলা থেকে ঘুরবেন না। হাত বাঁধুন (ডান হাত বাঁয়ের ওপর) বুকে বা নাভির নিচে, অথবা আপনি যে রীতি অনুসরণ করেন সে অনুযায়ী দুপাশে ছেড়ে রাখুন (নিচে ভিন্নতা দেখুন)।
ধাপ ২: সানা (ঐচ্ছিক তবে মুস্তাহাব)
নীরবে:
সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুক। “হে আল্লাহ, তুমি পবিত্র, প্রশংসা তোমারই; তোমার নাম বরকতময়, তোমার মহিমা সুউচ্চ, আর তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।”
তারপর: আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম (“বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই”) এবং বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম (“পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে”)।
ধাপ ৩: সুরা ফাতিহা
কুরআনের প্রথম সুরা পড়ুন। কিরাতের একমাত্র অংশ এটি, যা প্রতিটি মাজহাব প্রতি রাকাতে আবশ্যক করে (বুখারি ৭৫৬)।
আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। আর-রাহমানির রাহিম। মালিকি ইয়াওমিদ্দিন। ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাইন। ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম। সিরাতাল্লাজিনা আনআমতা আলাইহিম, গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়া লাদ্দাল্লিন।
তারপর আমিন (মাজহাবভেদে নীরবে বা সরবে)। বাক্য ধরে ধরে অর্থ আছে সুরা ফাতিহার অর্থ বোঝা লেখায়।
ধাপ ৪: একটি ছোট সুরা
যেকোনো নামাজের প্রথম দুই রাকাতে সুরা ফাতিহার পর একটি ছোট অংশ যোগ করুন। নতুনরা সাধারণত সুরা ইখলাস (১১২) দিয়ে শুরু করেন:
কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুস সামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ। “বলো: তিনি আল্লাহ, এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি জন্ম দেননি, জন্মানওনি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।”
অর্থসহ আরও ছোট সুরা আছে নামাজে কী পড়বেন লেখায়।
ধাপ ৫: রুকু
আল্লাহু আকবার বলে পিঠ মোটামুটি সমতল হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকুন, হাত হাঁটুতে আঁকড়ে, আঙুল ছড়িয়ে। স্থির থেকে তিনবার বলুন:
সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম — “আমার মহান প্রতিপালক পবিত্র।”
ধাপ ৬: রুকু থেকে ওঠা
সোজা দাঁড়ান, উঠতে উঠতে বলুন:
সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ — “যে আল্লাহর প্রশংসা করে, আল্লাহ তা শোনেন।”
তারপর, দাঁড়িয়ে: রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ — “হে আমাদের প্রতিপালক, সব প্রশংসা তোমারই।”
পুরোপুরি সোজা না হওয়া পর্যন্ত থামুন। তাড়াহুড়ো করে নামাজ পড়া ব্যক্তির হাদিস (বুখারি ৭৫৭ / মুসলিম ৩৯৭) ঠিক এ বিষয়ে: নবী (সা.) তাকে প্রতিটি অবস্থানে শান্ত ও স্থির না হওয়া পর্যন্ত নামাজ পুনরায় পড়িয়েছিলেন।
ধাপ ৭: প্রথম সিজদা
আল্লাহু আকবার বলে মাটিতে নামুন। সাতটি অঙ্গ মাটি স্পর্শ করে: নাকসহ কপাল, দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু, দুই পায়ের আঙুল। পুরুষের কনুই মাটি থেকে ওপরে। তিনবার বলুন:
সুবহানা রাব্বিয়াল আলা — “আমার সর্বোচ্চ প্রতিপালক পবিত্র।”
ধাপ ৮: দুই সিজদার মাঝের বৈঠক
আল্লাহু আকবার বলে বাঁ পায়ের ওপর বসুন, ডান পা খাড়া (বা যেভাবে বসতে পারেন)। স্থির থেকে বলুন:
রাব্বিগফির লি — “হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করো।” (একবারই যথেষ্ট; দুই-তিনবার প্রচলিত।)
ধাপ ৯: দ্বিতীয় সিজদা
আল্লাহু আকবার, আগের মতোই আবার সিজদা, সুবহানা রাব্বিয়াল আলা তিনবার।
এতে প্রথম রাকাত পূর্ণ হলো।
ধাপ ১০: দ্বিতীয় রাকাত
আল্লাহু আকবার বলে উঠে দাঁড়ান। ধাপ ৩–৯ পুনরাবৃত্তি করুন: সুরা ফাতিহা, একটি ছোট সুরা (ভিন্ন একটি হলে ভালো, তবে আবশ্যক নয়), রুকু, ওঠা, দুই সিজদা। সানা বাদ দিন; তা একবারই বলা হয়।
ধাপ ১১: তাশাহহুদ (বৈঠক)
দ্বিতীয় রাকাতের দ্বিতীয় সিজদার পর বসে থাকুন এবং বলুন:
আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তাইয়্যিবাত। আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহিন। আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ।
“সব সম্মান, নামাজ ও পবিত্র জিনিস আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত। আমাদের ওপর ও আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি। আমি সাক্ষ্য দিই আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আর সাক্ষ্য দিই মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল।”
অনেকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর সময় ডান হাতের তর্জনী তোলেন।
ধাপ ১২: দরুদ শরিফ
বসে থেকেই:
আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।
“হে আল্লাহ, মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবারের ওপর রহমত পাঠাও, যেমন পাঠিয়েছ ইবরাহিম ও ইবরাহিমের পরিবারের ওপর; তুমি প্রশংসিত, মহিমান্বিত। হে আল্লাহ, মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের পরিবারের ওপর বরকত দাও, যেমন দিয়েছ ইবরাহিম ও ইবরাহিমের পরিবারের ওপর; তুমি প্রশংসিত, মহিমান্বিত।”
এখানে যেকোনো ছোট দোয়া যোগ করতে পারেন।
ধাপ ১৩: সালাম
মাথা ডানে ঘুরিয়ে বলুন আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, তারপর বাঁয়ে ঘুরিয়ে আবার বলুন। নামাজ শেষ। অনেকে এরপর এক মিনিট নামাজের পর জিকিরে বসেন।
তিন ও চার রাকাতের নামাজে কী আলাদা
| নামাজ | রাকাত | যা বদলায় |
|---|---|---|
| ফজর | ২ | ওপরের মতো। |
| জোহর, আসর, এশা | ৪ | ২য় রাকাতের পর শুধু প্রথম তাশাহহুদের জন্য বসুন (প্রথম অনুচ্ছেদ, “ওয়া রাসুলুহ” পর্যন্ত), তারপর ৩য় ও ৪র্থ রাকাতের জন্য দাঁড়ান। সে দুটিতে শুধু সুরা ফাতিহা, অতিরিক্ত সুরা নয়। ৪র্থ রাকাতের পর: পূর্ণ তাশাহহুদ, দরুদ, সালাম। |
| মাগরিব | ৩ | ২য় রাকাতের পর প্রথম তাশাহহুদ, তারপর শুধু সুরা ফাতিহাসহ আরেক রাকাত, তারপর পূর্ণ শেষ বৈঠক ও সালাম। |
দিনের সময়ের সঙ্গে আরও দুটি জিনিস বদলায়:
- সরব না নীরব। ফজর, মাগরিব ও এশা: প্রথম দুই রাকাতে সুরা ফাতিহা ও সুরা সরবে পড়া যায় (ইমাম সরবে পড়েন; একা পড়লে আপনি পারেন)। জোহর ও আসর সবসময় নীরবে।
- অতিরিক্ত সুন্নত রাকাত। প্রতিটি ফরজ নামাজের আগে বা পরে মুস্তাহাব রাকাত আছে; দেখুন রাকাতের টেবিল। ফরজ দিয়ে শুরু করুন আর অভ্যাস থিতু হলে সুন্নত যোগ করুন।
উদাহরণ: পূর্ণ একটি এশা
রাকাত ১: তাকবির, সানা, ফাতিহা, ইখলাস, রুকু, ওঠা, সিজদা, বৈঠক, সিজদা। রাকাত ২: ফাতিহা, কাউসার, রুকু, ওঠা, সিজদা, বৈঠক, সিজদা, প্রথম তাশাহহুদ, দাঁড়ানো। রাকাত ৩: শুধু ফাতিহা, রুকু, ওঠা, সিজদা, বৈঠক, সিজদা। রাকাত ৪: শুধু ফাতিহা, রুকু, ওঠা, সিজদা, বৈঠক, সিজদা, তাশাহহুদ + দরুদ + দোয়া, সালাম। তারপর বিতর, যা ১ বা ৩ রাকাত।
মাজহাবগুলোর মধ্যে প্রচলিত ভিন্নতা
এগুলোর কোনোটিই নামাজের বৈধতায় প্রভাব ফেলে না। আপনি যা দেখছেন তা বোঝার জন্য তালিকাভুক্ত।
| বিষয় | যা দেখবেন |
|---|---|
| দাঁড়ানো অবস্থায় হাতের অবস্থান | হানাফি: নাভির নিচে। শাফেয়ি ও হাম্বলি: বুকে বা তার ঠিক নিচে। অনেক মালিকি ও জাফরি মুসলিম: হাত দুপাশে। |
| হাত তোলা | সবাই তাকবিরে তাহরিমায় হাত তোলেন। অধিকাংশ রুকুর আগে ও পরেও তোলেন; হানাফিরা শুধু শুরুতে। |
| ফাতিহার পর “আমিন” | শাফেয়ি ও হাম্বলিরা সরব নামাজে সরবে বলেন; হানাফি ও মালিকিরা নীরবে; জাফরি মুসলিমরা বলেন না। |
| ফজরে কুনুত | শাফেয়িরা ফজরের দ্বিতীয় রাকাতে রুকুর পর দাঁড়িয়ে একটি ছোট দোয়া যোগ করেন; অন্যরা না। জাফরি মুসলিমরা প্রতিটি নামাজে দ্বিতীয় রাকাতের রুকুর আগে কুনুত যোগ করতে পারেন। |
| বসার ভঙ্গি | হানাফিরা পুরো সময় বাঁ পায়ের ওপর বসেন। শাফেয়ি ও হাম্বলিরা শেষ বৈঠকে তাওয়াররুকে (বাঁ নিতম্ব মাটিতে) যান। মালিকিরা দুই বৈঠকেই তাওয়াররুক করেন। |
| সিজদার তল | জাফরি মুসলিমরা কাপড়ের বদলে মাটি বা ছোট মাটির ফলকে (তুরবা) সিজদা করেন। |
| তাশাহহুদে আঙুলের নড়াচড়া | কেউ একবার আঙুল তোলেন; কেউ হালকা নাড়ান; কেউ তুলে রাখেন। |
নিজের অবস্থার জন্য আস্থাভাজন আলেম বা ইমামকে জিজ্ঞেস করুন; আপনার পরিবার বা স্থানীয় মসজিদ যে মাজহাব অনুসরণ করে তা দিয়ে শুরু করাই ভালো।
প্রথম মাসের শেখার পরিকল্পনা
- ১ম সপ্তাহ: আল্লাহু আকবার, সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম, সুবহানা রাব্বিয়াল আলা, রাব্বিগফির লি, সালাম মুখস্থ করুন। বাকিটা কার্ড দেখে পড়ুন।
- ২য় সপ্তাহ: সুরা ফাতিহা, দিনে এক লাইন।
- ৩য় সপ্তাহ: তাশাহহুদ ও সুরা ইখলাস।
- ৪র্থ সপ্তাহ: দরুদ, তারপর সানা।
শেখার সময় জায়নামাজের পাশে একটি কাগজের কার্ড রাখা ঠিক আছে। প্রথম দিনেই নিখুঁত উচ্চারণের চেয়ে পাঁচটি নির্ধারিত সময়ে নিয়মিত থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ (কুরআন ৪:১০৩)। নতুন মুসলিমদের জন্য নামাজে প্রথম পদক্ষেপ লেখাটিও কাজে আসতে পারে।
প্রয়োজনীয় টুল
প্রশ্নোত্তর
এখনো আরবি না জানলে কি নামাজ পড়তে পারব?
হ্যাঁ। উচ্চারণ দেখে ধীরে ধীরে সুরা ফাতিহা ও ছোট বাক্যগুলো শিখুন, আর ততদিন যা জানেন তা-ই বলুন। বেশির ভাগ শিক্ষক সব মুখস্থ না হওয়া পর্যন্ত নামাজ ফেলে না রেখে ধাপে ধাপে শব্দ শেখার পরামর্শ দেন।
নামাজের মাঝে ভুল করে ফেললে?
ছোট ভুলে নামাজ ভাঙে না। কোনো অংশ বাড়িয়ে, বাদ দিয়ে বা সন্দেহে পড়লে শেষে সাহু সিজদা আছে। পুরো একটি রাকাত ভুলে গেলে শেষ বৈঠকের আগে তা যোগ করে নিন।
সব কিছু কি সরবে বলতে হবে?
না। একা পড়লে ফজর, মাগরিব ও এশার কিরাত সরবে পড়া যায় (চিৎকার নয়), জোহর ও আসর নীরবে। রুকু, সিজদা ও বৈঠকের বাক্যগুলো সবসময় নীরবে।
কেউ হাত বাঁধেন, কেউ ছেড়ে রাখেন কেন?
দুটোই ভিন্ন মাজহাবের বোঝা অনুযায়ী প্রাথমিক যুগের মুসলিমদের আমল থেকে এসেছে। হানাফি, শাফেয়ি ও হাম্বলিরা হাত বাঁধেন; অনেক মালিকি ও জাফরি মুসলিম হাত দুপাশে ছেড়ে রাখেন। কোনোটিতেই নামাজ বাতিল হয় না।
নামাজে কতক্ষণ লাগা উচিত?
নতুনদের জন্য ধীরস্থির দুই রাকাত নামাজে প্রায় তিন থেকে পাঁচ মিনিট। তাড়াহুড়ো করে নামাজ পড়া ব্যক্তির হাদিস (বুখারি ৭৫৭ / মুসলিম ৩৯৭) শেখায় যে প্রতিটি অবস্থানে শরীর স্থির না হওয়া পর্যন্ত থাকতে হয়।
সূত্র
- কুরআন ৪:১০৩; ২:২৩৮; ২৩:১–২
- সহিহ বুখারি ৬৩১ (আমাকে যেভাবে নামাজ পড়তে দেখেছ সেভাবে পড়ো)
- সহিহ বুখারি ৭৫৭; সহিহ মুসলিম ৩৯৭ (তাড়াহুড়ো করে নামাজ পড়া ব্যক্তি)
- সহিহ বুখারি ৭৫৬ (সুরা ফাতিহা ছাড়া নামাজ নেই)
- সহিহ মুসলিম ৫৭১ (সাহু সিজদা)